মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

৯ কোটি ৯০ লক্ষ টাকা মূল্যের মাদক পাচারের মামলায় ২জনের যাবজ্জীবন (৩০ বছর সশ্রম) কারাদন্ড, একইসাথে প্রত্যেককে এক লক্ষ টাকা করে অর্থদন্ড ও অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক বছর করে সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২ মার্চ) কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের জেলা নাজির বেদারুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।

দন্ডিত আসামীরা হলেন-কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়ার মৃত আলী হোসাইন ও নুরজাহানের পুত্র আবদুর রহিম এবং একই ইউনিয়নের নাইট্যংমুড়া গ্রামের আবুল হাসিম ও নুর জাহানের পুত্র আবদুল মোতালেব। দন্ডিত আসামীদ্বয় পলাতক রয়েছে। রায়ে একই ইউনিয়নের সিকদার পাড়ার রুস্তম আলীর পুত্র মোঃ নুরুল হুদাকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়। রাষ্ট্র পক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ :

২০২২ সালের ২ মার্চ বিজিবি ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের একটি টিম কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা খুঁড়েরদ্বীপ এলাকায় এক অভিযান চালিয়ে ৯ কোটি টাকা মূল্যের এক কেজি ৮০০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ (আইচ) এবং ৯০ লক্ষ মূল্যের ৩০ হাজার পিচ ইয়াবা টেবলেট উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বিজিবি ২ নম্বর ব্যাটালিয়নের নায়েক মোঃ আনোয়ারুল হক বাদী হয়ে আবদুর রহিম, আবদুল মোতালেব ও মোঃ নুরুল হুদাকে আসামী করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে টেকনাফ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার টেকনাফ থানা মামলা নম্বর : ০৯, তারিখ : ০৩/০৩/২০২২ ইংরেজি, জিআর মামলা নম্বর : ২০২/২০২২ ইংরেজি (টেকনাফ) এবং এসটি মামলা নম্বর : ১৮৮৬/২০২৩ ইংরেজি।

বিচার ও রায়
মামলাটি বিচারের জন্য ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চার্জ (অভিযোগ) গঠন করা হয়। মামলায় সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামীদের পক্ষে তাদের জেরা, আলামত প্রদর্শন, রাসায়নিক পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা, যুক্তিতর্ক সহ বিচারের জন্য সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য সোমবার দিন ধার্য্য করা হয়। রায় ঘোষণার দিনে কক্সবাজারের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ আবদুর রহিম ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) ধারার ১০(গ) সারণি মতে মামলার আসামী আবদুর রহিম ও আবদুল মোতালেবকে দোষী সাব্যস্থ করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন (৩০ বছর সশ্রম) কারাদন্ড, একইসাথে এক লক্ষ টাকা করে অর্থদন্ড ও অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো এক বছর করে সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। রায়ে মামলার অপর আসামী মোঃ নুরুল হুদার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়।